একদিন স্বপ্নের দিন, বেদনার বর্ণবিহীন

সৌরভ কুমার দাস
সৌরভ কুমার দাস সৌরভ কুমার দাস , নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৩:৫৮ পিএম, ১৬ আগস্ট ২০২৬

‘একদিন স্বপ্নের দিন, বেদনার বর্ণবিহীন, এ জীবনে যেন আসে এমনই স্বপ্নের দিন।’ ভারতের বিখ্যাত গায়ক নচিকেতার গাওয়া এই গান একসময় ছিল মানুষের মুখে মুখে। বাংলাদেশের জন্যও কি আজ, ১৬ আগস্ট, তেমনই এক স্বপ্নের দিন?

শুধু ক্রিকেট সমর্থকদের কথা বললে হয়তো কম বলা হবে। ক্রিকেটই যে বাংলাদেশের সকল ধর্ম, রাজনৈতিক দল ও নানা মতের মানুষকে এক ছাতার নিচে নিয়ে আসে। সেই ক্রিকেট দলই আজ অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে গড়েছে ঐতিহাসিক এক জয়।

আরও পড়ুন

নিজভূমে পরবাসী অস্ট্রেলিয়া

ক্রিকেটের টুকটাক খবরও যারা রাখেন, তারা নিশ্চয়ই জানেন — বাংলাদেশের জন্য এই অর্জনের মাহাত্ম্য ঠিক কতটা বড়। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে স্বাগতিকদের হারানো, তাও আবার টেস্টে। এমন সাফল্য বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে নিঃসন্দেহে বিশেষ এক অধ্যায়। ম্যাচ শেষে বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তও বলেছেন, এটাই বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের সেরা জয়।

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশ টেস্ট খেলবে, এটা চূড়ান্ত হওয়ার পর একটাই প্রশ্ন ছিল অস্ট্রেলিয়া আদৌ পূর্ণ শক্তির দল খেলাবে তো! এমনকি অজি অধিনায়ক প্যাট কামিন্স এক পডকাস্টে বলেছিলেন, ‘আমাদের কয়েকজন খেলোয়াড় ২০ দিনের কাজের জন্য ৫ লাখ পাউন্ডের প্রস্তাব পেয়েও তারা বাংলাদেশের বিপক্ষে ওই দুই টেস্ট খেলতে যেতে রাজি নয়।’

এর কিছুদিন পর বাংলাদেশ সফরে আসে অজিরা। ওয়ানডে সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচে তাদের রীতিমতো নাকানি-চুবানি খাইয়ে সিরিজ জিতে নেয় টাইগাররা। শেষ ম্যাচে ১ উইকেটের শ্বাসরুদ্ধকর জয়ে হোয়াইটওয়াশ এড়ায় অস্ট্রেলিয়া! এরপরই কি তাদের টনক নড়লো কিনা কে জানে, টেস্টে দেখা গেলো একেবারে পূর্ণ শক্তির দল দিলো। অন্যদিকে বাংলাদেশ হারালো চোটে ভুগতে থাকা দলের সেরা পেসার নাহিদ রানাকে।

শরিফুল-রানা না থাকা, লিটনের শেষ মুহূর্তে ফিটনেস পাশ করা! সবমিলিয়ে টেস্ট কি ৩ দিনেও যাবে, এমন গুঞ্জনও ছিলো! এমনকি ম্যাচ শুরুর আগের দিন কামিন্সকেও এমন প্রশ্ন করা হয়েছিল, তিনি বলেছিলেন ‘কে জানে।’

ডারউইনে ১৩ আগস্ট টস জিতে আগে ব্যাটিং নিলো অস্ট্রেলিয়া। এক অজি সাংবাদিক টুইট করলেন, প্রথম ইনিংসে রানের পাহাড় গড়ো এরপর ওদের দুদিনে দুবার অলআউট করে দাও। আমাদের দুদিন কম কাজ করা লাগবে! এমন খোঁচা, আর অহংবোধের জবাবটা বাংলাদেশ মাঠেই দিয়েছে। সাড়ে ৩ দিনেই অস্ট্রেলিয়াকে ওদের মাটিতেই হারিয়েছে। আর ওই সাংবাদিকেরও একদিন কম কাজ করা লেগেছে।

টস হেরে বোলিং করতে নেমেই দেখা গেলো অন্য বাংলাদেশের। প্রত্যেকে যেন মরিয়া হয়ে ছিল ইতিহাস গড়তে। শুরুটা করলেন হাসান মাহমুদ। একে একে ৬ অজি ব্যাটারকে ফেরত পাঠালেন ড্রেসিংরুমে। তার বোলিংয়ের সামনে স্মিথ ছাড়া আর কোনো অজি ব্যাটারই টিকতে পারেননি। হাসান অবশ্য সেই স্মিথকে ফিরিয়েই ১৯৮ রানে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসের ইতি টানেন।

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে কোনো টেস্ট ইনিংসে সফরকারী দলের পেসারদের ছয় বা তার বেশি উইকেট নেওয়ার ঘটনা খুব বেশি নয়। ইতিহাসের সেই তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন উপমহাদেশের কিংবদন্তি পেসার সরফরাজ নওয়াজ, কপিল দেব, ইমরান খান, ওয়াসিম আকরাম, মোহাম্মদ শামি ও জসপ্রিত বুমরাহ। আমির জামাল, অজিত আগরকারদের নামও রয়েছে সেখানে। এবার সেই তালিকায় বাংলাদেশের হয়ে যুক্ত হলো হাসান মাহমুদের নাম।

হাসান একসময় ফ্রন্ট-অন অ্যাকশনে বোলিং করতেন, অনিশ্চয়তার করিডোরে বল রেখে ব্যাটারকে ভুল করার সুযোগ তৈরি করতেন। নতুন বলে সিম ও সুইংয়ের ব্যবহারও ছিল তার অন্যতম অস্ত্র। তবে নিজের বোলিং নিয়ে প্রতিনিয়ত কাজ করে অনেক পরিণত হয়েছেন তিনি। এর সঙ্গে ইংল্যান্ডে কাউন্টি ক্রিকেট খেলা, লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগের অভিজ্ঞতা। সব মিলিয়ে তার বোলিংয়ে এসেছে পরিণত ভাব। এখন বল ছাড়ার মুহূর্তে হাতের অবস্থান এবং কবজির ব্যবহারে আগের চেয়ে বেশি নিয়ন্ত্রণ তৈরি হয়েছে।

ডারউইনে তার বোলিংয়ের সবচেয়ে বড় সৌন্দর্য ছিল লাইন-লেন্থের ধারাবাহিকতা। জ্যাক ওয়েদারাল্ডের বিপক্ষে একদিকে দেরিতে সিম মুভমেন্ট, অন্যদিকে মিডল-লেগ থেকে ভেতরে ঢুকে আসা বল, ব্যাটারের জন্য দুদিকের সম্ভাবনাই তৈরি করেছিলেন তিনি। পরে স্ক্র্যাম্বলড সিমে বাইরে যাওয়া বল ড্রাইভ করতে গিয়ে ক্যাচ দেন ওয়েদারাল্ড।

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের টেস্ট খেলার ইতিহাসই খুব ছোট। ২৩ বছর পর আবার এই দেশে টেস্ট খেলতে এসেছে বাংলাদেশ। এতদিন অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এমন কন্ডিশনে বাংলাদেশের প্রধান ভরসা ছিল স্পিন। পেসাররা মাঝেমধ্যে সহায়তা করলেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার দায়িত্বটা প্রায়ই স্পিনারদের কাঁধে থাকতো।

ডারউইনে দৃশ্যপটটা পাল্টে গেল। নাহিদ রানা ছিলেন না। অথচ তার অনুপস্থিতিও বাংলাদেশের পেস আক্রমণের ধার কমাতে পারেনি। হাসান মাহমুদ ও তাসকিন আহমেদ মিলে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিংকে শুরুতেই অস্বস্তিতে ফেলেছেন। বিশেষ করে হাসানের বোলিংয়ে ছিল অস্ট্রেলিয়ান কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার অসাধারণ দক্ষতা।

মেঘলা আকাশ, পিচে পেসারদের জন্য বাড়তি সহায়তা এবং নিখুঁত লাইন-লেন্থ সবকিছু মিলিয়ে হাসানের বোলিং হয়ে উঠেছিল টেস্ট ক্রিকেটের আদর্শ এক প্রদর্শনী। অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটাররা ছোটবেলা থেকেই দ্রুতগতির বোলিংয়ে অভ্যস্ত। তারপরও বাংলাদেশের ২৬ বছর বয়সী পেসারের সুইং, সিম ও বাউন্স তাদের পরিকল্পনা বারবার ভেঙে দিয়েছে। ম্যাচ শেষে প্যাট কামিন্স বলছিলেন প্রথম দিন ওই এক ঘণ্টা কাটিয়ে দিতে পারলেই হতো! যেটা তারা পারেনি হাসানের জন্য।

বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের গল্পটাও কম অবিশ্বাস্য নয়। মাত্র দ্বিতীয় টেস্ট খেলতে নামা তানজিদ হাসান তামিম অস্ট্রেলিয়ার মতো দলের বিপক্ষে এমন এক ইনিংস খেলেছেন, যা বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে আলাদা জায়গা করে নেবে।

মিচেল স্টার্ক, জশ হ্যাজেলউড, প্যাট কামিন্স ও নাথান লায়ন- চারজনের সম্মিলিত টেস্ট উইকেটের সংখ্যা ছিল ১,৬০০-এরও বেশি। এমন আক্রমণের সামনে দ্বিতীয় টেস্ট খেলতে নামা একজন তরুণ ওপেনারের সেঞ্চুরি নিঃসন্দেহে বিশেষ কিছু। এর আগে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের হয়ে টেস্ট সেঞ্চুরি করেছিলেন শাহরিয়ার নাফীস। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের প্রথম ব্যাটার হিসেবে তিন অঙ্কে পৌঁছানোর কীর্তি এখন তানজিদের। সবচেয়ে সুন্দর ব্যাপার ছিল, সেঞ্চুরির পর অস্ট্রেলিয়ান দর্শকদের কাছ থেকেও তিনি পেয়েছেন করতালি ও সম্মান।

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট জয় কতটা কঠিন, সেটি বুঝতে ইতিহাসের দিকে তাকালেই যথেষ্ট। শ্রীলঙ্কা এখনো অস্ট্রেলিয়ায় কোনো টেস্ট জিততে পারেনি। পাকিস্তানের সর্বশেষ টেস্ট জয় অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে এসেছিল ১৯৯৫ সালে। ভারতকে অস্ট্রেলিয়ায় প্রথম টেস্ট জয়ের জন্যও অপেক্ষা করতে হয়েছিল প্রায় তিন দশক এবং ১০টি টেস্ট। এশিয়ার দেশ হিসেবে বাংলাদেশ সেই তালিকায় যুক্ত হলো যেখানে এখনো লঙ্কানরা জায়গা পায়নি।

আরও পড়ুন

অস্ট্রেলিয়ার দুর্গে বাংলাদেশের হানা, এই জয় কেন এত বড়?

গত ১৫ বছরে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টস হেরে টেস্ট জেতা সফরকারী দলের সংখ্যা এখন মাত্র পাঁচ। সেই বিরল তালিকায় বাংলাদেশের নাম যুক্ত হওয়াই বলে দেয়, ডারউইনের জয় কতটা ব্যতিক্রমী। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে সাম্প্রতিক সময়ে বিদেশি কোনো দলের এতটা আধিপত্য দেখানোও খুব বেশি দেখা যায়নি। দুই বছর আগে ব্রিসবেনে শামার জোসেফের নেতৃত্বে ওয়েস্ট ইন্ডিজের আবেগময় জয়ের সঙ্গে এই জয়কে তুলনা করা যায়। ২০২৪ সালে পার্থে ভারতের ২৯৫ রানের জয়ের কথাও এখানে উল্লেখযোগ্য। তবে ডারউইনে বাংলাদেশের চার দিনের আধিপত্যকে সাম্প্রতিক সময়ের অস্ট্রেলিয়া সফরগুলোর অন্যতম বিস্ময়কর ফল বললেও বাড়াবাড়ি হবে না।

গত এক দশকে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে তাদের হারাতে পেরেছে কেবল ভারত, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ইংল্যান্ড। অ্যাশেজের মতো মর্যাদাপূর্ণ প্রতিদ্বন্দ্বিতাতেও অস্ট্রেলিয়াকে তাদের ঘরের মাঠে হারানো ইংল্যান্ডের জন্য বহু বছর কঠিন ছিল। ১৯৮৬ সালের পর দীর্ঘ অপেক্ষা শেষে ২০১০ সালে মাইকেল ভনের নেতৃত্বে ইংল্যান্ড অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে অ্যাশেজ জিতেছিল।

আরও পুরোনো ইতিহাসে গেলে দেখা যায়, ১৮৮২ সালে ইংল্যান্ডের মাটিতে অস্ট্রেলিয়ার প্রথম টেস্ট জয় কিংবা ১৯৫০ সালে লর্ডসে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইংল্যান্ডকে হারানো, ক্রিকেট ইতিহাসের স্মরণীয় মুহূর্তগুলোর সঙ্গে অস্ট্রেলিয়া বা ইংল্যান্ডের ঘরের মাঠে পাওয়া জয়ের একটা আলাদা মর্যাদা জড়িয়ে আছে।

অস্ট্রেলিয়া সফরের আগে বাংলাদেশকে ঘিরে আত্মবিশ্বাস খুব বেশি ছিল না। এর কিছুদিন আগেই জিম্বাবুয়ের কাছে ইনিংস ব্যবধানে হেরেছে দল। এরপর অস্ট্রেলিয়ায় যাওয়ার আগে প্রস্তুতি ম্যাচে ৫৪ রানে অলআউট। তারপর টেস্ট সিরিজটাও অজিদের ঘরের মাঠে! সব মিলিয়ে বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়াকে তাদের মাটিতে হারাবে। এমন ভবিষ্যদ্বাণী করার সাহস খুব কম মানুষেরই ছিল।

এমনকি সফরের আগে সংবাদ সম্মেলনে শান্ত সাংবাদিকদের কাছেই জানতে চেয়েছিলেন, অস্ট্রেলিয়া সফরে বাংলাদেশের লক্ষ্য কী হওয়া উচিত। একজন সাংবাদিক বলেছিলেন, ‘ভালো খেলা।’ শান্ত তখন মজা করে পাল্টা প্রশ্ন করেছিলেন, তিনি নিজে এই উত্তর দিলে সাংবাদিকরা সেটি গ্রহণ করতেন কি না। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ শুধু ভালো খেলেনি, অস্ট্রেলিয়াকে চার দিন ধরে চাপে রেখে ম্যাচ জিতে ফিরেছে।

এই ঐতিহাসিক জয়ের দিনে মুমিনুল হকের নাম না তুললে ঘোরতর অন্যায় হবে। ২০১৯ সালে সাকিব আল হাসান নিষিদ্ধ হওয়ায় তাকে টেস্ট অধিনায়ক করা হয়। অধিনায়ক হয়েই টেস্ট ক্রিকেটে শক্তিশালী পেস আক্রমণ গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথা মমিনুল হক অধিনায়ক থাকাকালীনই গুরুত্ব দিয়ে বলা শুরু করেন । ঘরোয়া ক্রিকেটের পেসারদের জাতীয় দলের জন্য প্রস্তুত থাকতে উৎসাহিত করা, তাদের ওপর আস্থা রাখা সেই সংস্কৃতির ফল এখন দেখা যাচ্ছে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম ইনিংসের ১০ উইকেটের সবকটিই নিয়েছেন পেসাররা।

অথচ আগে বিদেশের মাটিতে গেলেও পেসারদের কাছ থেকে কিছুই পাওয়া যেতো না। হাসান মাহমুদ, তাসকিন আহমেদ, নাহিদ রানা কিংবা অন্য তরুণ পেসাররা সেই পরিবর্তনের ধারাবাহিকতা।ডারউইনে নাহিদ ছিলেন না, কিন্তু বাংলাদেশ তার অভাব অনুভব করতে দেয়নি। হাসান ছয় উইকেট নিয়েছেন, তাসকিনও গুরুত্বপূর্ণ সময়ে চাপ তৈরি করেছেন। অর্থাৎ একজন তারকার অনুপস্থিতিতে পুরো আক্রমণ ভেঙে পড়েনি।

মিচেল স্টার্ককে থামাতে গেলে ফ্লিকে সফল হতেই হবে। তানজিদ হাসান তামিম সেটাই করে দেখিয়েছেন। ফ্লিক করে রান বের করেছেন, আবার অফ স্টাম্পের বাইরে থাকা বল ছেড়েছেন। তার ব্যাটিংয়েই প্রথম ইনিংসে পার্থক্য গড়ে দিয়েছে। আর মেহেদী হাসান মিরাজ তো সেটাই আরেকবার করলেন, দল বিপদে পড়লে যেটা করে থাকেন। প্রথম ইনিংসে ৬৫ রান করার পর বল হাতে নিয়েছেন ৫ উইকেট। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে কোনো টেস্টে একই ম্যাচে অর্ধশতক ও পাঁচ উইকেট নেওয়া এশিয়ান ক্রিকেটারদের বিশেষ তালিকাতেও এখন জায়গা করে নিয়েছেন মিরাজ। এই জয় বাংলাদেশের সবচেয়ে অভিজ্ঞ ক্রিকেটার মুশফিকুর রহিমের ক্যারিয়ারেও আলাদা গুরুত্ব বহন করে। দুই দশকের বেশি সময় ধরে টেস্ট ক্রিকেট খেলা এই অভিজ্ঞ ব্যাটারের অস্ট্রেলিয়ায় এটাই ছিল প্রথম টেস্ট।

অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ডের মতো দলগুলো দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের সঙ্গে নিয়মিত টেস্ট খেলেনি। অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশের সর্বশেষ টেস্ট সিরিজ হয়েছিল ২৩ বছর আগে। ইংল্যান্ডও দীর্ঘ সময় ধরে বাংলাদেশকে টেস্ট সিরিজের জন্য আতিথ্য দেয়নি। ভারতের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশের টেস্ট সম্পর্ক তুলনামূলকভাবে সাম্প্রতিক। ২০১৭ সালে প্রথমবার ভারতে টেস্ট খেলেছে বাংলাদেশ। অথচ এখনো ভারতে বাংলাদেশের কোনো দ্বিপাক্ষিক ওয়ানডে সিরিজ হয়নি। এসব নিয়ে অসন্তোষ থাকা স্বাভাবিক। কিন্তু ক্রিকেটে একটি কঠিন সত্য মেনে নিতে হয় — সম্মান চেয়ে পাওয়া যায় না, পারফরম্যান্স দিয়ে অর্জন করতে হয়। বাংলাদেশ সেই পথেই হাঁটছে।

আরও পড়ুন

ব্যাটে-বলে-ফিল্ডিংয়ে কোনো সুযোগই অস্ট্রেলিয়াকে দেয়নি টাইগাররা

ডারউইনের জয় নিঃসন্দেহে ঐতিহাসিক। কিন্তু বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এখন এই জয়কে ধারাবাহিকতায় রূপ দেওয়া। বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেট, প্রথম শ্রেণির কাঠামো, খেলোয়াড় তৈরির প্রক্রিয়া সব জায়গাতেই এখনও উন্নতির সুযোগ রয়েছে। জাতীয় দলও সবসময় ধারাবাহিক ছিল না। কখনো ভালো অবস্থান থেকে ম্যাচ হাতছাড়া হয়েছে, কখনো প্রত্যাশার তুলনায় অনেক খারাপ ফল এসেছে।

অনেকে এই জয়কে অঘটন বলতে চাইবেন! কিন্তু র‍্যাংকিংয়ের ১ নম্বর দলের বিপক্ষে ৯ নম্বর দল যখন ম্যাচের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আধিপত্য দেখায় তখন সেটিকে অঘটন বলাটা স্রেফ বোকামী।

এসকেডি/আইএন

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন jagofeature@gmail.com ঠিকানায়।