প্রজন্মভিত্তিক স্বয়ংক্রিয় জমির মালিকানা ব্যবস্থা চালুর চিন্তা
মো. মিজানুর রহমান মিনু। রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনবার। ছিলেন সংসদ সদস্যও। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজশাহী-২ আসন থেকে নির্বাচিত হয়ে পেয়েছেন ভূমিমন্ত্রীর দায়িত্ব।
ভূমি সংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা, সেবা পেতে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ এবং এ দুর্ভোগ লাঘবে এ সেবার আধুনিকায়ন নিয়ে কথা বলেছেন জাগো নিউজের সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন জাগো নিউজের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মাসুদ রানা। দুই পর্বের সাক্ষাৎকারের প্রথম পর্ব ‘‘মাঠ পর্যায়ের ভূমি অফিসে উপস্থিতি নিশ্চিতে আসছে ‘ভূমি দৃষ্টি’ অ্যাপ’’ শিরোনামে প্রকাশিত হয়েছে বৃহস্পতিবার। আজ প্রকাশিত হলো দ্বিতীয় পর্ব।
জাগো নিউজ: নামজারির যে ডিজিটাল ব্যবস্থা রয়েছে, সেটি নিয়ে ভূমি অফিসের সংশ্লিষ্টরা অভিযোগ করেন যে ঠিকমতো কাজ করা যায় না। এতে ত্রুটি রয়েছে। বিষয়টি কি আপনাদের নজরে আছে?
ভূমিমন্ত্রী: হ্যাঁ, স্বাভাবিক। সবই তো শুরু হয়েছে। এটা আমাদের জানা আছে যে এ ব্যাপারে জনগণের এখনো প্রশ্ন আছে। এটা আছে। আমরা এটা নিরসনের চেষ্টা করছি।
জাগো নিউজ: ভূমি রেজিস্ট্রি বিভাগ ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীনে নেই। দীর্ঘদিন এটি ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীনে আনার দাবি রয়েছে। সংস্কার কমিশনও এ বিষয়ে সুপারিশ করেছে। বিষয়টি কীভাবে দেখছেন?
ভূমিমন্ত্রী: আশা করছি, খুব দ্রুত এটারও সমাধান হবে। ভূমি রেজিস্ট্রি বিভাগকে ভূমি মন্ত্রণালয়ের আওতায় আনা উচিত।
ওখানে কেউ খারাপ কিছু করলে বা অনিয়ম করলে তাদের সতর্ক করে দেওয়া কিংবা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া, এটা আমরা করতে পারছি না। সেটি তো আমাদের অধীনে নেই। যাদের কাছে আছে, তাদের এ বিষয়ে দেখার সময়ও নেই।
জাগো নিউজ: ভূমি সেবাকে ভবিষ্যতে কোন জায়গায় নিয়ে যেতে চান? আপনার মূল লক্ষ্য কী?
ভূমিমন্ত্রী: আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে জবাবদিহি নিশ্চিত করা। যারা দীর্ঘদিন দাদার সময়কার সমস্যা শেষ করতে পারেনি, বেচারা পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছে। তার ছেলে সেটাকে নিয়ে কনটিনিউ করছে। সে লোয়ার কোর্ট থেকে হাইকোর্ট পর্যন্ত যাচ্ছে, নাতিও করছে। অনেক কিছুরই সমাধান হচ্ছে না।
আমরা চাই এসব সমস্যা জনগণের খুব দ্রুত দোরগোড়ায় পৌঁছে সমাধান করতে। বিশেষ করে তারা যেন এসব সমস্যা নিয়ে বসে না থাকে।
আপনারা জানেন, ভাইয়ে ভাইয়ে গন্ডগোল হয় জমি নিয়ে। গন্ডগোল হয় পাশাপাশি জমি নিয়ে। ভাইয়েরা অনেক সময় বোনদের ঠিকমতো জমি দেয় না। আবার অনেকের জমি ভূমিদস্যুরা দখল করে নেয়।
তারপর আমাদের এখানে ৪৭-এর বিষয়টিও আছে। আপনারা জানেন, ধর্মের ভিত্তিতে দেশ স্বাধীন হয়েছে। বাংলাদেশ তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান আর ওদিকে ভারতেও তাই।
মালয়েশিয়া অনেক এগিয়ে গেছে। তাদের ভূমি ব্যবস্থায় মালিকানা নির্ধারণের যে ব্যবস্থা, সেখানে তিন পুরুষ আগে কে মালিক ছিলেন, এই পাঁচ শতক জমির মালিক কে ছিলেন— সেটিও জানা যায়। মালয়েশিয়ার মতো প্রজন্মভিত্তিক স্বয়ংক্রিয় জমির মালিকানা ব্যবস্থা চালুর চিন্তা করছি আমরা।
জাগো নিউজ: ১৯৪৭ সালের দেশভাগের কারণে যে সম্পত্তি বিনিময় ও মালিকানা জটিলতা তৈরি হয়েছে, সেটির সমাধানে কী উদ্যোগ নিচ্ছেন?
ভূমিমন্ত্রী: এখানের ভূমির অনেক মালিক ভারতে চলে গেছেন, কেউ কেউ ভারত থেকে এদেশে এসেছেন। তাদের যে সম্পত্তিগুলো এখন আছে, বিনিময় করা হয়েছে। এটাকে আগে বলা হতো শত্রু সম্পত্তি, এখন এটা অর্পিত সম্পত্তি হয়েছে।
আমরা চেষ্টা করছি, যার দখলে বা অবস্থানে আছে, তাদের একটি বৈধ মালিকানা দিয়ে দিতে। সে বিষয়েও আমাদের উদ্যোগ আছে।
জাগো নিউজ: ভবিষ্যতের ভূমি মালিকানা ব্যবস্থায় কী ধরনের পরিবর্তন আনতে চান?
ভূমিমন্ত্রী: আমরা ভবিষ্যতে ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ার মতো একটি উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে এগোতে চাই। মালয়েশিয়া অনেক এগিয়ে গেছে। তাদের ভূমি ব্যবস্থায় মালিকানা নির্ধারণের যে ব্যবস্থা, সেখানে তিন পুরুষ আগে কে মালিক ছিলেন, এই পাঁচ শতক জমির মালিক কে ছিলেন— সেটিও জানা যায়। মালয়েশিয়ার মতো প্রজন্মভিত্তিক স্বয়ংক্রিয় জমির মালিকানা ব্যবস্থা চালুর চিন্তা করছি আমরা।
ধরা যাক, একজন মালিকের তিন ছেলে ও দুই মেয়ে। এরপর তৃতীয় প্রজন্মে সদস্য দাঁড়িয়ে গেছে ২৭ বা ২৮ জন। সেখানে কার্ড সিস্টেম আছে। প্রথম মালিকের কাছ থেকে তিন ছেলে ও দুই মেয়ের কাছে ভাগ হয়ে যাবে। এরপর স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরবর্তী প্রজন্মগুলোর মধ্যে ভাগ হয়ে যাবে।
তারপর কেউ যদি বিনিময় করতে চায়, ওয়ান টু ওয়ান করতে পারে; যে বিক্রি করবে তার আইনজীবী, যে কিনবে তার আইনজীবী। তারা সবকিছু দেখে শুনে এটি চূড়ান্ত করে। এরপর যারা কিনবে তাদের কাছে বলা হবে, তারা টাকা দেবে। সে টাকা তার কাউন্টার অ্যাডভোকেটের কাছে দেবে। সে টাকা প্রকৃত মালিক, যারা বিক্রি করলো, তাদের কাছে দেবে। তাহলে আর কিছুই হবে না।
ওইসব দেশে এ নিয়ে কোনো মারামারি, গন্ডগোল নেই, কোনো মামলাও নেই। কোনো কিছুই নেই। এভাবে হয়ে যায়। আমরা ওভাবে যাওয়ার চেষ্টা করছি।
এটা আবার সেখানে (মালয়েশিয়া) গিয়ে দেখার দরকার নেই। আমরা এরই মধ্যে সেখানকার কাগজপত্র নিয়ে এসেছি। নিয়ে এসে আমাদের এখানটায় দেখানো হচ্ছে। ভবিষ্যতে আমরা যদি মনে করি এটি ভালো, তাহলে জাতীয় সংসদে বিল আনবো, আইন করবো। আইন করে এটি বাস্তবায়ন করবো।
জাগো নিউজ: কৃষিজমি রক্ষা এবং অপরিকল্পিত শিল্পায়ন ঠেকাতে ভূমি মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা কী?
ভূমিমন্ত্রী: ভূমি মন্ত্রণালয়ের, বাংলাদেশের সব সম্পদ কৃষিজমি। তিন ফসলি, দুই ফসলি জমি। আগামী দিনে এখানে (কৃষি জমিতে) আর কোনো ডেভেলপমেন্ট কাজ হবে না।

ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনুর সঙ্গে কথা বলছেন জাগো নিউজের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মাসুদ রানা/ ছবি- জাগো নিউজ
আমরা ভবিষ্যতে কী ইট-পাথরের চাষাবাদ করবো, না মাটির? আল্লাহর দান, বাংলাদেশের মাটি সবচেয়ে দামি। এখানে তিনটা, চারটা ফসল হয়। জাপান অনেক উন্নত, ওদের একটা ফসলও হয় না। আমরা এই মাটি আর নষ্ট করবো না। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য খাদ্যব্যবস্থা সুসংহত করার জন্য এটা রেখে দেবো।
আমরা ভবিষ্যতে কি ইট-পাথরের চাষাবাদ করবো, না কি মাটির? আল্লাহর দান, বাংলাদেশের মাটি সবচেয়ে দামি। এখানে তিনটা, চারটা ফসল হয়। জাপান অনেক উন্নত, ওদের একটা ফসলও হয় না। আমরা এই মাটি আর নষ্ট করবো না। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য খাদ্যব্যবস্থা সুসংহত করার জন্য এটা রেখে দেবো।
জাগো নিউজ: গ্রামাঞ্চলে কৃষিজমিতে ব্যাপকভাবে ঘরবাড়ি উঠছে। সেটি কীভাবে বন্ধ করবেন?
ভূমিমন্ত্রী: না, ছোটখাটো বিষয়গুলো এখন দেখার সুযোগ নেই। বড় বড় অনেক বিষয় আছে। ১৫০, ২০০, ৫০০ একর করে অনেকে কিছু গড়ে তোলে। ইন্ডাস্ট্রি, এগুলো আমরা নিরুৎসাহিত করবো। অনুমতি দেবো না।
এটা ভূমিমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বরাদ্দের যে মিটিং হয়, তিন মাস, চার মাস পরপর হয়। আমরা এটা আর করবো না, অনুমোদন করবো না।
জাগো নিউজ: তাহলে কৃষিজমিতে শিল্প স্থাপনের পরিবর্তে কোন ধরনের জমি ব্যবহার করতে চান?
ভূমিমন্ত্রী: যেগুলো অকৃষি জমি, চরাঞ্চলের জমি, সেগুলোতে। যেমন আমাদের চরাঞ্চলে প্রচুর জমি আছে। সমুদ্রের পাশে প্রচুর জমি আছে। আমরা প্যান্টা প্ল্যান্টেশনের পাশাপাশি এখন সৌরবিদ্যুতের ব্যবস্থা করছি।
জাগো নিউজ: ডিজিটাল সার্ভের মাধ্যমে জমির জালিয়াতি ও জমি নিয়ে বিরোধ অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব। আপনারা যে ডিজিটাল জরিপ করছেন, সেটির সর্বশেষ অবস্থা কী?
ভূমিমন্ত্রী: আসলে সত্যি কথা বলতে সৎ, যোগ্য ও দেশপ্রেমিক আমাদের নতুন প্রজন্মের ছেলেরা উঠে আসবে, দায়িত্ব নেবে। এবার যেমন যাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, তারাই এটার সমাধান করতে পারবে।
আমি নিচ থেকে তুলে এনেছি। আগে ২০ থেকে ৩০ লাখ টাকা ঘুস দিয়ে নিয়োগ হতো। এই জেনারেশনের ছেলেরা চেষ্টা করতো। এরপর আরেকজনকে তুলে আনা হতো। এতে তাদের অভ্যাস খারাপ হয়ে যেত।
তারপর অনেক সময় ওয়াইফ প্ররোচিত করে। কিন্তু তার কলভ, হার্ট, তার হৃদয় যদি ঠিক থাকে, দায়িত্ববোধ থেকে সে তা করবে না।
ডিজিটাল সার্ভেটা কবে নাগাদ হবে, সেটা নিয়ে আমাদের কাজ চলছে। এরই মধ্যে ডিজিটাল সার্ভের পুরো বিষয়টিতে কোরিয়া অর্থায়ন করছে। আশা করছি, সারা দেশের জন্য অত্যাধুনিক একটি ব্যবস্থায় এই সার্ভে হবে। নিয়মনীতি অনুযায়ী আমরা চেষ্টা করছি।
কারণ এ ধরনের সার্ভে অতীতে যেগুলো হয়েছে, সেখানে অনেক অনিয়ম, অদক্ষতা এবং দুর্নামের কাজ হয়েছে। আমরা সেটা করতে চাই না। দেশব্যাপী ডিজিটালাইজড ভূমি জরিপ ও সমন্বিত ভূমি তথ্য ব্যবস্থাপনা সিস্টেমের প্রি-ফিজিবিলিটি স্টাডি হচ্ছে।
একজন বড় মানুষ অমুক দলের নেতা ছিলেন, তিনি ভূমি নিয়ে নিয়েছেন, আবার সাবলিজ দিয়ে নিজের লোকজনকে দিয়েছেন। ভবিষ্যতে ‘জাল যার, জলা তার’ এ নীতিতে চলবে।
জাগো নিউজ: খাস জমি নিয়ে বিগত সময়ে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। অনেক খাস জমি বেদখল হয়ে আছে। এ বিষয়ে কী উদ্যোগ নিচ্ছেন?
ভূমিমন্ত্রী: যারা এভাবে খাস জমি পেয়েছে- বিশেষ করে তিন পার্বত্য জেলা এবং এ ধরনের অন্যান্য ভূমি, কোস্টাল বেল্ট— এসব জায়গায় সবচেয়ে বেশি হয়েছে। এসব বরাদ্দ বাতিল করার চেষ্টা করছি। প্রকৃত যারা ভূমিহীন, তাদের দেওয়ার চেষ্টা করছি।
একজন বড় মানুষ অমুক দলের নেতা ছিলেন, তিনি ভূমি নিয়ে নিয়েছেন, আবার সাবলিজ দিয়ে নিজের লোকজনকে দিয়েছেন। ভবিষ্যতে ‘জাল যার, জলা তার’ এ নীতিতে চলবে।
যে মানুষগুলো কষ্ট করে ভূমি চাষাবাদ করছেন, ফসল ফলাচ্ছেন, তার বাবার হয়তো দুই বিঘা বা তিন বিঘা জমি ছিল, এখন সন্তান এই জেনারেশনে এসে ভূমিহীন হয়ে গেছেন। তার দাদা হয়তো সাত-আট বিঘা জমির মালিক ছিলেন। তখন তারা খুব সুন্দরভাবে ফসল ফলাতেন।
কিন্তু এখন ভূমিহীন বেশি হয়ে গেছে। যারা কাজ করবে, যার কাছে লাঙল আছে, সেই জমি তাদেরই আমরা দেবো।
আমরা গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত হয়েছি জনগণের ভোটে। জনগণের কাছেই আমাদের জবাবদিহি করতে হবে। মন্ত্রী হিসেবে আমাদের জবাবদিহি প্রধানমন্ত্রীর কাছে। সে দায়িত্ব পালন করতে সবদিক দিয়ে চেষ্টা করে কিছুটা হলেও কামিয়াবি হয়েছি মানুষের কাছে। ভূমি মন্ত্রণালয়ে আগের মতো আর দুর্নাম নেই। ভবিষ্যতে আরও অগ্রগতি অর্জন করতে পারবো।

ভূমি অফিসে যেসব সেবা পাবেন
জাগো নিউজ: আওয়ামী লীগ সরকারের সর্বশেষ যিনি ভূমিমন্ত্রী ছিলেন, তার বিরুদ্ধে বিদেশে ৩৩০টি বাড়ি থাকার মতো নানা অভিযোগ শোনা যাচ্ছে। ভূমি মন্ত্রণালয়ে দুর্নীতির কোনো বড় জায়গা কি পেয়েছেন?
ভূমিমন্ত্রী: না, এটা আমরা এরই মধ্যে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) পাঠিয়েছি। এ ধরনের বড় বিষয়গুলো যা পাচ্ছি, আমরা পাঠিয়ে দিচ্ছি। একটি নিরপেক্ষ দূরত্বে থেকে এগুলো করছি।
এ বিষয়ে আমি আর কিছু বলতে চাই না। তবে জনমনে যে ঘৃণিত কাজের কথা এসেছে, মিডিয়ায় এসেছে, আমিও সেরকম দেখেছি। আমার দায়িত্ব হলো, সেগুলোর ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রতিশোধ না নিয়ে প্রকৃতপক্ষে যেন দুর্নীতি দমন সংস্থার মাধ্যমে বিচার হয়, তার ব্যবস্থা করা।
জাগো নিউজ: আপনার মন্ত্রণালয়ে প্রচুর মানুষ আসেন। অনেক সময় মানুষের ভিড়ে আপনার কাজ করাও কঠিন হয়ে যায়। তদবিরের কতটা চাপের মধ্যে আছেন?
ভূমিমন্ত্রী: আসলে আমাদের দেশের মানুষ অসহায়, নিঃস্ব। দীর্ঘ ১৭ বছর আমরা একটি অত্যন্ত ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে মাঠে ছিলাম। অনেক সময় আমাদের অনেক বক্তব্য রাখতে হয়েছে, ভালো ও ন্যায়ের পক্ষে। এর মধ্যে যারা খুবই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, এদের সংখ্যা প্রায় জনগোষ্ঠীর অর্ধেকের বেশি। আপনারা জানেন, তখন অনেকে বনে-জঙ্গলে থেকেছেন।
আর যাদের বেশি ক্ষতি হয়ে গেছে আমরা তাদের রাজনীতিতে নিয়ে আসছি। তার পড়ালেখার বয়স শেষ হয়ে গেছে, সে কোনো জায়গায় আবেদন করতে পারেনি, কর্মহীন হয়ে গেছে। এটা একটা বিশাল বেদনা। তো আমরা চাই, তাদের পরিবারের অন্য কেউ যেন বিভিন্ন জায়গায় সুযোগ পায়। আমি সেই চেষ্টাটা করি।
জাগো নিউজ: ব্যস্ততার মধ্যেও সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
ভূমিমন্ত্রী: আপনাকে ও জাগো নিউজকে ধন্যবাদ।
আরএমএম/কেএসআর




