আইএসপি খাতে বিদেশি বিনিয়োগ ৪৯ শতাংশের বেশি হওয়া উচিত নয়
- রিসেলার মডেল চালু হলে ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর হাতে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট জিম্মি হয়ে পড়বে
- রিসেলার মডেলে গ্রাহকের খরচ বাড়বে, কমবে প্রতিযোগিতা
- চাঁদাবাজি বন্ধে আইএসপিকে সিআইআই ঘোষণার দাবি
- ইন্টারনেট অবকাঠামোয় হামলায় কঠোর শাস্তির দাবি
- ইন্টারনেটের ভালো সেবা পেতে উন্নত রাউটার ব্যবহার করতে হবে
দেশের ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার (আইএসপি) খাতে বিদেশি বিনিয়োগ কোনোভাবেই ৪৯ শতাংশের বেশি হওয়া উচিত নয়। এর বেশি হলে তা ডিজিটাল সার্বভৌমত্বের জন্য হুঁমকি হয়ে দাঁড়াবে।
সেই সঙ্গে আইএসপি খাতে রিসেলার মডেল চালু হলে গ্রাহকের খরচ বাড়বে। ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা এলাকাভিত্তিক নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর হাতে জিম্মি হয়ে পড়বে। ইন্টারনেট ব্যবসায় চাঁদাবাজি বন্ধ করতে আইএসপি খাতকে ক্রিটিক্যাল ইনফরমেশন ইনফ্রাস্ট্রাকচার (সিআইআই) হিসেবে ঘোষণা করতে হবে। ইন্টারনেট অফিস বা অবকাঠামোতে কেউ হামলা করলে তাকে কঠোর শাস্তির আওতায় আনতে হবে। আর ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের ভালো সেবা পেতে গ্রাহককে উন্নতমানের রাউটার ব্যবহার করতে হবে।
জাগো নিউজকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেছেন দেশে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবাদাতাদের সংগঠন ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (আইএসপিএবি) সভাপতি ও আম্বার আইটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আমিনুল হাকিম। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন জাগো নিউজের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক এমদাদুল হক তুহিন।
আইএসপিএবি সভাপতি মোহাম্মদ আমিনুল হাকিম, ফাইল ছবি
জাগো নিউজ: টেলিকম খাতে নতুন নীতিমালায় বিদেশি ও দেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বৈষম্যের অভিযোগ উঠেছে। আইএসপি খাতের প্রতিনিধি হিসেবে খসড়া নীতিমালাটিকে কিভাবে দেখছেন?
মোহাম্মদ আমিনুল হাকিম: সর্বশেষ খসড়া গাইডলাইনে আইএসপি খাতে বিদেশি বিনিয়োগ ৮০ শতাংশ এবং স্থানীয় বিনিয়োগ ২০ শতাংশ রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। আমরা অনুরোধ করেছি, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে বৈঠক করা হোক। আমরা লিখিত ও মৌখিকভাবে বিষয়টি জানিয়েছি।
আমরা সবসময় বলে আসছি, আইএসপি খাতে বিদেশি বিনিয়োগ সর্বোচ্চ ৪৯ শতাংশ হওয়া উচিত। স্থানীয় বিনিয়োগকারীর হাতে ৫১ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ থাকা প্রয়োজন।
জাগো নিউজ: এর পেছনে আপনার যুক্তি কী?
মোহাম্মদ আমিনুল হাকিম: আমাদের ইন্ডাস্ট্রির প্রায় ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ উদ্যোক্তাই তরুণ। অর্থাৎ এ খাতে যুবসমাজের বড় বিনিয়োগ রয়েছে। তাই বিদেশি বিনিয়োগ কতটা জরুরি, সেটিও বিবেচনা করতে হবে। এখন যুদ্ধের ধরন বদলে গেছে। ড্রোন ও প্রযুক্তি দিয়ে যুদ্ধ হচ্ছে। ফলে ডিজিটাল সার্বভৌমত্ব এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করতে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক কানেকটিভিটি নিজেদের বিনিয়োগের মাধ্যমে গড়ে তোলা উচিত।

জুলাই থেকে কার্যকর / সারাদেশে একই দামে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা / ৬ মাসে ৭ কোটি মানুষকে মোবাইল ইন্টারনেটের আওতায় আনা হবে
আইএসপিরা সরাসরি গ্রাহকের লাস্ট মাইল কানেকটিভিটি দেয়। সরকারি-বেসরকারি ও প্রান্তিক—সব ধরনের গ্রাহক আমাদের নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত। এখানে যদি ৮০ শতাংশ বিদেশি বিনিয়োগ থাকে, তাহলে ডেটা নিরাপত্তা ও ডিজিটাল সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন আসে। কোনো কারণে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা অস্থিতিশীলতা তৈরি করতে চাইলে তার প্রভাব নেটওয়ার্কে পড়তে পারে। নেটওয়ার্ক বন্ধ হয়ে যাওয়া, ম্যালফাংশনিং কিংবা ডেটা নিরাপত্তার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই বিদেশি বিনিয়োগ সর্বোচ্চ ৪৯ শতাংশ ও স্থানীয় বিনিয়োগকারীর হাতে ৫১ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ থাকা উচিত।
জাগো নিউজ: নীতিমালার আর কোন বিষয় নিয়ে আইএসপি খাতের আপত্তি রয়েছে?
মোহাম্মদ আমিনুল হাকিম: রিসেলার বা ফ্র্যাঞ্চাইজি মডেল নিয়ে আমাদের আপত্তি রয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় প্রথমদিকে এই মডেল চালুর প্রস্তাব ছিল। আমাদের আন্দোলন ও অনুরোধের পর বিটিআরসি সেটি বাদ দেয় এবং মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করে। কিন্তু বর্তমানে আবার রিসেলার অপশন চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এটিতে আমাদের জোরালো আপত্তি রয়েছে।
জাগো নিউজ: রিসেলার মডেলে সমস্যা কোথায়?
মোহাম্মদ আমিনুল হাকিম: রিসেলার মডেলে নির্দিষ্ট এলাকায় একচেটিয়া ব্যবসার সুযোগ তৈরি হয় ও মূল্য বাড়ানোর ঝুঁকি থাকে। কেবল টিভির মতো একজন রিসেলার কোনো এলাকায় আধিপত্য তৈরি করে ১ হাজার টাকার সেবা ২ হাজার টাকায় বিক্রি করতে পারে, আবার অতিরিক্ত ইনস্টলেশন ফিও নিতে পারে। এতে বিটিআরসির নির্ধারিত সাশ্রয়ী মূল্যের ইন্টারনেট এবং ‘এক দেশ এক রেট’ উদ্যোগ বাধাগ্রস্ত হবে।
আইএসপিএবির সভাপতি মোহাম্মদ আমিনুল হাকিম, ফাইল ছবি
জাগো নিউজ: রিসেলার চালু হলে গ্রাহকের ওপর কী প্রভাব পড়বে?
মোহাম্মদ আমিনুল হাকিম: প্রথমত গ্রাহক সেবা পাবেন না, দ্বিতীয়ত অন্য কোনো অপারেটরও ওই এলাকায় আসতে পারবে না। ফলে প্রতিযোগিতা থাকবে না। ইন্টারনেট এখন মানুষের ডিজিটাল লাইফলাইনের প্রধান উপাদান। মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করতে হলে গ্রাহকের হাতে একাধিক অপারেটরের অপশন থাকতে হবে। সরকার বলতে পারে, একটি এলাকায় ১০টি বা ৫০টি রিসেলার থাকবে। কিন্তু বাস্তবে যারা এলাকায় একক আধিপত্য বিস্তার করতে চায়, তারাই রিসেলার হতে আগ্রহী হবে। শেষ পর্যন্ত এতে সেবার মান কমবে।
জাগো নিউজ: নতুন প্রস্তাবনায় লাইসেন্সের স্তর কমিয়ে আনার বিষয়টি কীভাবে দেখছেন?
মোহাম্মদ আমিনুল হাকিম: বর্তমানে আইএসপির চারটি স্তর—থানা বা উপজেলা, জেলা, বিভাগ ও নেশনওয়াইড। নতুন প্রস্তাবনায় থানা বা উপজেলা পর্যায়কে জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়কে নেশনওয়াইডে মাইগ্রেট করার কথা বলা হচ্ছে। এখন যারা বিভাগীয় আইএসপি, তাদের নেশনওয়াইড হতে বাধ্য করা হলে বিনিয়োগের প্রশ্ন আসে। সরকার এজন্য অর্থ দিচ্ছে না, ব্যাংকগুলোও এখন খুব ভালো অবস্থায় নেই। ধরুন, একটি বিভাগে আমার ১০ কোটি টাকা বিনিয়োগ আছে। নেশনওয়াইড করতে গেলে ১৫০ থেকে ২০০ কোটি টাকা পর্যন্ত প্রয়োজন হতে পারে। এত বড় বিনিয়োগ এক বছরে করা সম্ভব নয়।
তাই একটি রোডম্যাপ দেওয়া উচিত। ২০৩০, ২০৩১ কিংবা ২০৩২ সালের মধ্যে নেশনওয়াইডে মাইগ্রেট করতে হবে—এভাবে সময় দেওয়া হলে আমরা ফান্ড সংগ্রহ ও বিনিয়োগের প্রস্তুতি নিতে পারব।
জাগো নিউজ: যারা নেশনওয়াইডে যেতে পারবে না, তাদের ডাউনগ্রেড করে জেলা পর্যায়ে যাওয়ার সুযোগ রাখা হচ্ছে। এটিও কি সমস্যা?
মোহাম্মদ আমিনুল হাকিম: অবশ্যই। একটি বিভাগে ১০টি জেলা থাকলে একজন বিভাগীয় আইএসপি ওই ১০ জেলায় নেটওয়ার্ক তৈরি করেছে। নেশনওয়াইড হওয়ার মতো বিনিয়োগ করতে না পারলে তাকে যদি একটি জেলার লাইসেন্স নিতে বলা হয়, তাহলে বাকি নয় জেলার বিনিয়োগ কী হবে? একজন উদ্যোক্তা ১০-২০ বছর ধরে ব্যবসা করছেন। তার জ্ঞান ও অভিজ্ঞতারও মূল্য রয়েছে। তাই লেয়ারিং পরিবর্তন করতে হলে করুন, কিন্তু অন্তত পাঁচ বছর বিদ্যমান পজিশনে থাকার সুযোগ দেওয়া উচিত।

‘সরকার করহার না কমালে ইন্টারনেটের দাম কমবে না’

বাকৃবির হলে ইন্টারনেট আছে গতি নেই, ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীরা
জাগো নিউজ: লাইসেন্সিং ফি নিয়েও আপত্তি আছে?
মোহাম্মদ আমিনুল হাকিম: আগে লাইসেন্সিং ফি ছিল ৫ লাখ টাকা, এখন ২০ লাখ টাকা করা হয়েছে। অর্থাৎ চার গুণ বেড়েছে। ২০২৬ সালে প্রায় সব ব্যবসাই চাপের মধ্যে। এমন সময়ে লাইসেন্স ফি চার গুণ বাড়ানোর যুক্তি সরকারকে পুনর্বিবেচনা করতে হবে।
জাগো নিউজ: বর্তমান সরকারের প্রথম ছয় মাসে ব্যবসার পরিবেশ কেমন দেখছেন? আইএসপি ব্যবসায় চাঁদাবাজির অভিযোগও এসেছে।
মোহাম্মদ আমিনুল হাকিম: চাঁদাবাজির বিষয়টি আমরা গণমাধ্যমের মাধ্যমে জানছি। সরকারের পক্ষ থেকেও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। তবে এটি শুধু বর্তমান সরকারের সময়ে হয়েছে—এমন নয়। বাংলাদেশের জন্মলগ্ন থেকেই ব্যবসায়ী সমাজে চাঁদাবাজি রয়েছে। এটি দীর্ঘদিনের একটি ধারা।
তবে আইএসপি খাতের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—সরকার ইন্টারনেটকে জরুরি সেবা হিসেবে ঘোষণা করেছে। একজন ব্যবসায়ী হিসেবে আমি ইন্টারনেট বন্ধ করলে জেল-জরিমানা হতে পারে। কিন্তু একজন সন্ত্রাসী এসে আমার নেটওয়ার্ক বন্ধ করে দিলে তার জন্য আইন কোথায়?
আইএসপিএবির সভাপতি মোহাম্মদ আমিনুল হাকিম, ফাইল ছবি
জাগো নিউজ: এর সমাধান কী?
মোহাম্মদ আমিনুল হাকিম: সরকারের উচিত আইএসপি ইন্ডাস্ট্রিকে ক্রিটিক্যাল ইনফরমেশন ইনফ্রাস্ট্রাকচার (সিআইআই) হিসেবে ঘোষণা করা। এতে এ ধরনের অবকাঠামোয় হামলার জন্য কঠোর শাস্তির বিধান করা সম্ভব হবে। চাঁদাবাজরা টাকা না দিলে নেটওয়ার্কে বা অফিসে হামলা করে, সার্ভিস বন্ধ করে দেয়। সরকারকে পরিষ্কার বার্তা দিতে হবে—এটি দেশের ক্রিটিক্যাল ইনফরমেশন ইনফ্রাস্ট্রাকচার। এখানে হামলা বা হস্তক্ষেপ করলে কঠোর শাস্তি হবে।
জাগো নিউজ: সব মিলিয়ে আইএসপি ব্যবসা কেমন যাচ্ছে?
মোহাম্মদ আমিনুল হাকিম: আমি ইতিবাচকভাবে দেখি। বিশ্বব্যাপী ব্যবসার অবস্থা খারাপ। অনেক ব্যবসা বন্ধ হয়ে গেছে, অনেক প্রতিষ্ঠান লে-অফ করছে। এর মধ্যেও আমাদের ইন্ডাস্ট্রিতে ন্যূনতম হলেও গ্রোথ আছে। আমরা এখনও প্রায় ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ কর্মীকে বেতন দিতে পারছি। আমাদের ওপর নির্ভর করে প্রায় ১ হাজার ৫০০ পরিবার চলছে। আগের মতো গ্রোথ বা প্রফিট মার্জিন নেই, কিন্তু এই বৈশ্বিক মন্দার সময়ে এত পরিবারকে পরিচালনা করতে পারছি—এটিকে আমি ইতিবাচকভাবে দেখি।
জাগো নিউজ: আইএসপি খাতে বিদেশি বিনিয়োগ তেমন নেই। তাহলে সরকার কেন বিদেশি বিনিয়োগের সুযোগ দিতে চাইছে?
মোহাম্মদ আমিনুল হাকিম: সম্ভবত সরকার মনে করছে, দেশে ফিক্সড ব্রডব্যান্ডের পেনিট্রেশন প্রায় ১০ শতাংশ। প্রায় ৪ থেকে সাড়ে ৪ কোটি হাউসহোল্ডের বিপরীতে কানেক্টিভিটি রয়েছে ৭০ থেকে ৯০ লাখের মতো। আরও বিপুলসংখ্যক মানুষকে সংযুক্ত করতে যে বিনিয়োগ প্রয়োজন, স্থানীয় বিনিয়োগকারীরা হয়তো তা করতে পারবেন না—এমন ধারণা থেকেই বিদেশি বিনিয়োগের কথা ভাবা হচ্ছে। কিন্তু বিদেশি বিনিয়োগ এলে ডিজিটাল সার্বভৌমত্বের ঝুঁকিও বিবেচনা করতে হবে।

ইন্টারনেট অফিসে হামলা: মূল সংগঠক মাইকেলসহ গ্রেফতার ৯

ইন্টারনেট সেবা প্রতিষ্ঠানে হামলা, ৭ দিনের মধ্যে গ্রেফতারের হুঁশিয়ারি
জাগো নিউজ: স্থানীয় বিনিয়োগকারীরা কি এই বিনিয়োগ করতে সক্ষম?
মোহাম্মদ আমিনুল হাকিম: আমি দৃঢ়ভাবে বলছি, স্থানীয় বিনিয়োগকারীরা সক্ষম। প্রতি লাইন অ্যাকুইজিশন কস্ট প্রায় ১৫ হাজার টাকা। দেশে ৭০ থেকে ৮০ লাখ কানেক্টিভিটি থাকলে স্থানীয় বিনিয়োগকারীরা ইতোমধ্যে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করেছেন। আমরা যখন এত টাকা বিনিয়োগ করতে পেরেছি, বাকি বিনিয়োগও করতে পারব। তবে নীতিগত সহায়তা দিতে হবে। বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বিভিন্ন সুবিধা ও আইনি সুরক্ষা পান। আমাদের ইন্ডাস্ট্রিকে যদি সত্যিই অসুস্থ হিসেবে বিবেচনা করা হয়, তাহলে ভ্যাট-ট্যাক্সে ছাড় দিতে হবে এবং আইএসপি খাতকে আইটি-এনাবলড সার্ভিস হিসেবে ঘোষণা করতে হবে।
জাগো নিউজ: এত বিনিয়োগের পরও নেটওয়ার্কের বড় অংশ অব্যবহৃত থাকার কারণ কী?
মোহাম্মদ আমিনুল হাকিম: একই বাসায় একাধিক আইএসপি আলাদা আলাদা ফাইবার নিয়ে যাচ্ছে। একটি ফাইবারে ১০ হাজার টাকা খরচ হলে চারটি অপারেটরের চারটি ফাইবারে ৪০ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে। অথচ একটি ফাইবার দিয়েই কাজ করা সম্ভব ছিল। তাই অ্যাক্টিভ শেয়ারিং প্রয়োজন। এতে একই অবকাঠামো একাধিক অপারেটর ব্যবহার করতে পারবে এবং সাশ্রয় হওয়া অর্থ দিয়ে নতুন এলাকায় নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ করা যাবে।
জাগো নিউজ: গ্রাহকের অভিযোগ, ব্রডব্যান্ডের গুণগত মান অনেক সময় খারাপ থাকে। এর কারণ কী?
মোহাম্মদ আমিনুল হাকিম: গুণগত মান খারাপ হচ্ছে—এটা স্বীকার করি। তবে শুধু আইএসপিকে দায়ী করলে হবে না। আমরা বাসা পর্যন্ত ফাইবার নিয়ে যাই, সিগন্যাল ও ব্যান্ডউইথ ঠিক আছে কি না নিশ্চিত করি। এরপর গ্রাহকের রাউটার ও ডিভাইসের সক্ষমতাও গুরুত্বপূর্ণ। অনেক বাসায় এখনও ২.৪ গিগাহার্টজের পুরোনো রাউটার ব্যবহৃত হচ্ছে। এর সক্ষমতা সীমিত। ডুয়েল-ব্যান্ড রাউটার ব্যবহার বাড়ানো দরকার। একই সঙ্গে ওয়াই-ফাই ৬ ও আইপিভি৬-এর ব্যবহারও বাড়াতে হবে। ইউজার-এন্ডের ডিভাইস পরিবর্তন করা গেলে সেবার মানের বড় উন্নতি হবে।
আইএসপিএবির সভাপতি মোহাম্মদ আমিনুল হাকিম, ফাইল ছবি
জাগো নিউজ: ধানমন্ডিতে আপনারা অ্যাকটিভ শেয়ারিংয়ের পাইলট প্রকল্প করেছেন। সারাদেশে এটি চালু করতে কত সময় লাগতে পারে?
মোহাম্মদ আমিনুল হাকিম: আমরা ধানমন্ডিতে পাইলট প্রকল্প করে সরকারকে দিয়েছি। কিন্তু এখনও এর বৈধতা পাইনি। নীতিমালা ও সিটি করপোরেশনের সহযোগিতা পেলে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটের মতো মেট্রো শহরে এক থেকে দেড় বছরের মধ্যে অ্যাকটিভ শেয়ারিং চালু করা সম্ভব।
জাগো নিউজ: বর্তমানে এই খাতে আর কী ধরনের প্রতিবন্ধকতা রয়েছে?
মোহাম্মদ আমিনুল হাকিম: আন্তর্জাতিক বাজারে চিপসেট ও ডিভাইস-ইকুইপমেন্টের দাম বেড়েছে। গত কয়েক মাসে ফাইবার কেবলের দাম প্রায় ৪০ শতাংশ এবং ওএনইউর দাম প্রায় ২০ শতাংশ বেড়েছে। রাউটার ও সুইচের দামও বেড়েছে। অথচ ইন্টারনেটের সার্ভিস চার্জ বাড়েনি। বরং দীর্ঘ সময়ে ইন্টারনেটের দাম অনেক কমেছে। এর সঙ্গে ভ্যাট-ট্যাক্সের চাপও রয়েছে।
জাগো নিউজ: আগামী দুই থেকে পাঁচ বছরে আইএসপি খাতকে কোথায় দেখতে চান?
মোহাম্মদ আমিনুল হাকিম: এটি পুরোপুরি পলিসি মেকারদের ওপর নির্ভর করবে। যদি ইন্ডাস্ট্রি-সমর্থিত নীতি তৈরি করা হয়, তাহলে আগামী পাঁচ বছরে আইএসপি ইন্ডাস্ট্রি পাঁচ গুণ পর্যন্ত বাড়তে পারে। সরকার কীভাবে এই ইন্ডাস্ট্রিকে দেখতে চায়, সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

রাজধানীর ধানমন্ডি / একই ক্যাবলে মিলবে যে কোনো ব্রডব্যান্ড প্রতিষ্ঠানের ইন্টারনেট সেবা

‘সরকার করহার না কমালে ইন্টারনেটের দাম কমবে না’
জাগো নিউজ: সরকার কি আইএসপির চেয়ে মোবাইল অপারেটরদের বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে?
মোহাম্মদ আমিনুল হাকিম: এখনই এমন বলা যাবে না। কারণ গাইডলাইন এখনও অনুমোদন হয়নি, খসড়া পর্যায়ে রয়েছে। অনুমোদনের পর বোঝা যাবে সরকার কাকে কীভাবে সুবিধা দিচ্ছে।
জাগো নিউজ: ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের দাম আরও কমানো সম্ভব?
মোহাম্মদ আমিনুল হাকিম: অবশ্যই সম্ভব। এজন্য সরকারের অব্যবহৃত ব্যান্ডউইথ ও অবকাঠামো সমন্বয় করে কমন অ্যাক্সেস নেটওয়ার্ক বা ফাইবার ব্যাংকের মতো ব্যবস্থা করা যেতে পারে। একই সঙ্গে অ্যাকটিভ শেয়ারিং চালু করতে হবে। এতে বিনিয়োগের অপচয় কমবে, নতুন এলাকায় নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ করা যাবে এবং গ্রাহক সাশ্রয়ী মূল্যে মানসম্মত ইন্টারনেট পাবেন।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো—নীতিমালা এমন হতে হবে, যাতে স্থানীয় বিনিয়োগকারীরা টিকে থাকতে পারেন, বিনিয়োগ বাড়াতে পারেন এবং দেশের ডিজিটাল কানেকটিভিটি ও ডিজিটাল সার্বভৌমত্ব—দুটিই নিশ্চিত হয়।
ইএইচটি/এমএমএআর
