পদ্মার পাড় ঘিরে নতুন অর্থনৈতিক বলয়, বিনোদনের সঙ্গে চলছে জীবিকার লড়াই

মনির হোসেন মাহিন
মনির হোসেন মাহিন মনির হোসেন মাহিন , জেলা প্রতিনিধি-রাজশাহী
প্রকাশিত: ১০:২৮ এএম, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
পদ্মার পাডে দর্শনার্থীদের ভিড়/ ছবি: জাগো নিউজ

রাজশাহী শহরের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে ঐতিহ্যবাহী পদ্মা নদী। নগরবাসীর বিনোদনের অন্যতম প্রধান জায়গা হিসেবে দীর্ঘদিন ধরেই মানুষের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু এই নদীর পাড়। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত অনেকটা নিরিবিলি থাকলেও বিকেল গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বদলে যায় পুরো দৃশ্যপট। কর্মব্যস্ত নগরজীবনের ক্লান্তি দূর করতে প্রতিদিনই বিকেলে এখানে ছুটে আসেন বিভিন্ন বয়সী মানুষ। কেউ আসেন পরিবার নিয়ে, কেউ বন্ধুদের সঙ্গে, আবার কেউ একান্তে বসে নদীর নির্মল বাতাস ও সূর্যাস্ত উপভোগ করেন। আর দর্শনার্থীদের এই আনাগোনাকে কেন্দ্র করে পদ্মার পাড়ে গড়ে উঠেছে ছোট ছোট ব্যবসা ও জীবিকার একটি উল্লেখযোগ্য ক্ষেত্র।

রাজশাহী জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, নগরীর বুলনপুর থেকে বড়কুঠি, পঞ্চবটি হয়ে সাতবাড়িয়া পর্যন্ত প্রায় ১২ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে পদ্মার পাড় বিস্তৃত। ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে এই নদীর রূপও বদলে যায়। বর্ষায় পানিতে টইটম্বুর পদ্মা, আর শুষ্ক মৌসুমে জেগে ওঠা চর ও বালুচর-দুই সময়েই মানুষের কাছে নদীর আলাদা আকর্ষণ রয়েছে। নদীর পাড় ঘেঁষে হাঁটার পথ ও বিভিন্ন বিনোদনকেন্দ্র গড়ে ওঠায় নগরবাসীর অবসর কাটানোর অন্যতম ঠিকানা হয়ে উঠেছে এলাকাটি।

‘পদ্মা নদীর তীর, ঐতিহাসিক স্থাপনা এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে কেন্দ্র করে ওয়াকওয়ে, পার্ক, নৌকাভ্রমণ ও বিনোদন কেন্দ্র করে গড়ে তোলা গেলে রাজশাহী উত্তরাঞ্চলের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন নগরীতে পরিণত হবে। এতে একদিকে যেমন মানুষের বিনোদনের সুযোগ বাড়বে, অন্যদিকে ক্ষুদ্র ব্যবসা, নৌকাভ্রমণ, খাবারের দোকান ও অন্যান্য সেবাকে কেন্দ্র করে আরও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।’

বিকেল নামার সঙ্গে সঙ্গে পদ্মার পাড়ে বাড়তে থাকে মানুষের ভিড়। কেউ নদীর পাড়ে বসে গল্প করেন, কেউ হাঁটাহাঁটি করেন। শিশুরা মেতে ওঠে খেলাধুলায়। তরুণ-তরুণীদের অনেকেই বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডায় ব্যস্ত হয়ে পড়েন। আবার অনেকে পরিবার বা প্রিয়জনকে সঙ্গে নিয়ে নৌকায় চড়ে নদীতে ঘুরতে বের হন। সূর্য পশ্চিম আকাশে হেলে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে পদ্মার বিস্তীর্ণ জলরাশিতে তৈরি হয় অন্যরকম এক সৌন্দর্য। নদীর বাতাস, নৌকার দোলা আর সূর্যাস্তের দৃশ্য মানুষের ব্যস্ত জীবনে এনে দেয় স্বস্তির অনুভূতি।

শুধু রাজশাহী নগরী নয়, আশপাশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকেও মানুষ পদ্মার পাড়ে বেড়াতে আসেন। বিশেষ করে বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এখানে তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। পরিবার নিয়ে আসা মানুষের পাশাপাশি তরুণ-তরুণীদের উপস্থিতিও থাকে চোখে পড়ার মতো। ঈদসহ বিভিন্ন উৎসব ও ছুটির দিনে এই ভিড় আরও বেড়ে যায়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতেও বিভিন্ন উৎসবের সময় পদ্মার পাড়ে বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থীর সমাগম হয়েছে।

‘এখানে প্রায় পাঁচ বছর ধরে কসমেটিকসের দোকান করছি। এই সময়ে ব্যবসা অনেক উন্নত হয়েছে। মুক্তমঞ্চের এই এলাকায় দোকান দেওয়ার পর থেকে ভালো আয় হচ্ছে। এই ব্যবসা করেই সংসার চালাতে কাজে লাগে। আমার দুই ছেলে ও এক মেয়ে। মেয়ের বিয়ে দিয়েছি। এখন ব্যবসার আয়ই পরিবারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।’

নওগাঁ থেকে পদ্মার পাড়ে বেড়াতে আসা আরিফুল ইসলাম বলেন, এখানে এসে খুব ভালো লাগছে। জায়গাটা খুব সুন্দর। শহরের যান্ত্রিক জীবন থেকে বের হয়ে প্রকৃতির সঙ্গে কিছুটা সময় কাটানোর জন্য এখানে আসা। বিকেল হলে জায়গাটা যেন জনসমুদ্রে রূপ নেয়। নদীর পরিবেশ আর বাতাসও অনেক সুন্দর।

বন্ধুদের নিয়ে একসঙ্গে ঘুরতে এসেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী বিপ্লব। তিনি বলেন, “জায়গাটি আমার খুব পছন্দের। মাঝে মধ্যে মন খারাপ হলেই পদ্মা নদীর এই পাড়ে এসে বসি। আজকে বন্ধুদের একসঙ্গে ঘুরতে এসেছি। পদ্মার ওই পাড়েই কিন্তু ভারত। আমরা বাংলাদেশের এক প্রান্তে দাঁড়িয়ে পদ্মা নদী ও ভারতের সৌন্দর্য উপভোগ করছি।

‘পদ্মা নদী আমাদের ঐতিহ্যের অংশ। বিভিন্ন জায়গা থেকে মানুষ এখানে বেড়াতে আসেন। আমরা তাদের সুন্দরভাবে নৌকায় তুলি। আমাদের যে নির্ধারিত সীমানা আছে, তার মধ্যে ঘুরিয়ে আবার এখানে নামিয়ে দিই। নৌকা চালিয়েই আমাদের জীবিকা নির্বাহ হয়।’

তবে পদ্মার পাড় এখন শুধু বিনোদনের জায়গা নয়, অনেক মানুষের জীবিকারও গুরুত্বপূর্ণ উৎস। দর্শনার্থীদের আনাগোনাকে কেন্দ্র করে বিকেল হলেই নদীর পাড়ের বিভিন্ন স্থানে বসে অস্থায়ী দোকান। কোথাও ফুচকা, কোথাও চটপটি, আবার কোথাও ঝালমুড়ি, মুড়িভাজা, বাদামসহ নানা ধরনের খাবারের পসরা সাজিয়ে বসেন ব্যবসায়ীরা। শিশুদের আকৃষ্ট করতে থাকে খেলনা ও বিভিন্ন সামগ্রীর দোকান। পাশাপাশি কসমেটিকস, পোশাক ও অন্যান্য ছোটখাটো পণ্যের দোকানও চোখে পড়ে।

দর্শনার্থীর সংখ্যা যত বাড়ে, ব্যবসায়ীদের বিক্রিও তত বাড়ে। আর এই বিক্রির ওপর নির্ভর করেই অনেক পরিবারের সংসার চলে। কেউ প্রতিদিন দোকান নিয়ে বসেন, আবার কেউ বিকেলের কয়েক ঘণ্টার জন্য পসরা সাজিয়ে বসেন। ফলে পদ্মার পাড়কে ঘিরে ধীরে ধীরে তৈরি হয়েছে একটি ছোট অর্থনৈতিক বলয়। পর্যটন ও বিনোদনকেন্দ্র হিসেবে মানুষের উপস্থিতি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই ক্ষুদ্র ব্যবসাগুলোরও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

ঝালমুড়ি বিক্রেতা আরিফা বেগম বলেন, আমরা এখানে ঝালমুড়ি বিক্রি করি। বিকেল হলেই মানুষজন আসতে শুরু করেন। পরিবার নিয়ে যারা আসেন, তাদের অনেকেই ঝালমুড়ি খান। এই ব্যবসা করে আমাদের আয় হয় এবং তা দিয়েই সংসার চালাতে হয়।

পদ্মার পাড়ে দীর্ঘদিন ধরে কসমেটিকসের ব্যবসা করেন হানিফ মাহমুদ নামের এক বিক্রেতা। তিনি বলেন, এখানে প্রায় পাঁচ বছর ধরে কসমেটিকসের দোকান করছি। এই সময়ে ব্যবসা অনেক উন্নত হয়েছে। মুক্তমঞ্চের এই এলাকায় দোকান দেওয়ার পর থেকে ভালো আয় হচ্ছে। এই ব্যবসা করেই সংসার চালাতে কাজে লাগে। আমার দুই ছেলে ও এক মেয়ে। মেয়ের বিয়ে দিয়েছি। এখন ব্যবসার আয়ই পরিবারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

পদ্মার পাড়ের অর্থনীতির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ নৌকাভ্রমণ। বিকেল বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে নৌকার চাহিদা। নদীর ঘাটে সারিবদ্ধভাবে অপেক্ষা করে বিভিন্ন নৌকা। দর্শনার্থীরা পরিবার, বন্ধু কিংবা প্রিয়জনকে সঙ্গে নিয়ে নৌকায় ওঠেন। কেউ স্বল্প সময়ের জন্য নদীতে ঘুরে আসেন, আবার কেউ পদ্মার বিস্তীর্ণ জলরাশি উপভোগ করতে কিছুটা দীর্ঘ সময় নৌকায় কাটান।

নৌকাভ্রমণের আনন্দের সঙ্গে সরাসরি জড়িয়ে রয়েছে মাঝিদের জীবিকা। প্রতিদিন বিকেলে নৌকা নিয়ে নদীতে নামেন তারা। দর্শনার্থীদের নির্ধারিত এলাকার মধ্যে ঘুরিয়ে আবার ঘাটে ফিরিয়ে আনেন। যাত্রী বাড়লে মাঝিদের আয়ও বাড়ে। ফলে পদ্মার পাড়ে দর্শনার্থীদের ভিড় শুধু খাবার ও পণ্য বিক্রেতাদের নয়, নৌকার মাঝিদেরও আয়-রোজগারের সুযোগ তৈরি করে।

নৌকার মাঝি হোসেন আলী বলেন, পদ্মা নদী আমাদের ঐতিহ্যের অংশ। বিভিন্ন জায়গা থেকে মানুষ এখানে বেড়াতে আসেন। আমরা তাদের সুন্দরভাবে নৌকায় তুলি। আমাদের যে নির্ধারিত সীমানা আছে, তার মধ্যে ঘুরিয়ে আবার এখানে নামিয়ে দিই। নৌকা চালিয়েই আমাদের জীবিকা নির্বাহ হয়।

দর্শনার্থীদের কাছে নৌকাভ্রমণ যেন বাড়তি আকর্ষণ। বিশেষ করে বিকেলের শেষভাগে নদীতে যখন সূর্যের আলো পড়ে, তখন নৌকায় বসে সেই দৃশ্য উপভোগ করতে আগ্রহী হন অনেকে। ফলে সন্ধ্যার আগ পর্যন্ত মাঝিদের ব্যস্ততাও থাকে বেশি। তবে নদীতে মানুষের উপস্থিতি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। নৌযানে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা সরঞ্জাম, নির্ধারিত রুট ও যাত্রী ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে নৌকাভ্রমণ আরও নিরাপদ ও আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারে।

রাজশাহীর পদ্মার পাড়ের বর্তমান রূপ একদিনে তৈরি হয়নি। রাজশাহী সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন উন্নয়ন ও সৌন্দর্যবর্ধন কার্যক্রমের মাধ্যমে নদীর তীরবর্তী এলাকায় হাঁটার পথ, বসার ব্যবস্থা, পার্ক, মুক্তমঞ্চ, গ্যালারি, সেতুসহ বিভিন্ন অবকাঠামো গড়ে উঠেছে। এসব উদ্যোগের ফলে আগে তুলনামূলকভাবে অবহেলিত থাকা নদীর পাড় মানুষের অবসর ও বিনোদনের অন্যতম প্রধান স্থানে পরিণত হয়েছে।

আরও পড়ুন

দুয়ার খুললো সুন্দরবন: তীরে ঋণের ভার, বনে দস্যুর ভয়

রাজশাহী সিটি করপোরেশনের উন্নয়ন কার্যক্রমের ফলে বড়কুঠি, লালন শাহ পার্ক, টিবাঁধসহ নদীতীরবর্তী বিভিন্ন এলাকা নতুনভাবে মানুষের কাছে পরিচিত হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে এসব এলাকায় সৌন্দর্যবর্ধন, ওয়াকওয়ে, বসার স্থান ও বিনোদনকেন্দ্রের অবকাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে। ফলে পরিবার নিয়ে ঘোরাঘুরি, হাঁটাহাঁটি, ছবি তোলা ও নদীর সৌন্দর্য উপভোগের সুযোগ বেড়েছে।

বাংলাদেশ পর্যটন বোর্ডও রাজশাহীর অন্যতম দর্শনীয় স্থান হিসেবে পদ্মা নদীকে তুলে ধরেছে। পর্যটন বোর্ডের তথ্যে পদ্মাকে বাংলাদেশের অন্যতম বড় নদী হিসেবে উল্লেখ করে রাজশাহী শহরের সঙ্গে এর ভৌগোলিক ও প্রাকৃতিক সম্পর্কের কথা বলা হয়েছে।

আরও পড়ুন

সাতলা বিলের লাল শাপলায় পর্যটনের হাতছানি

স্থানীয়দের মতে, রাজশাহী নগরীতে উন্মুক্ত ও স্বল্প ব্যয়ের বিনোদনের সুযোগ তুলনামূলকভাবে সীমিত। এ কারণে পদ্মার পাড়ের গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে। বিশেষ করে কোনো প্রবেশমূল্য ছাড়াই নদীর পাড়ে বসে প্রকৃতি উপভোগ করা যায় বলে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের কাছেও এটি জনপ্রিয়। ২০২৬ সালের ঈদুল ফিতরের ছুটিতেও পদ্মার পাড়ে ব্যাপক মানুষের সমাগম দেখা গেছে।

তবে মানুষের আনাগোনা বাড়লেও সেই অনুপাতে সব জায়গায় পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা তৈরি হয়নি। কোথাও পর্যাপ্ত বসার ব্যবস্থা নেই, কোথাও হাঁটার জায়গা সংকুচিত। শিশুদের খেলাধুলার জন্যও পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই বলে অভিযোগ রয়েছে। ব্যস্ত সময়ে যানবাহন ও মানুষের চলাচল নিয়ন্ত্রণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা এবং নদীর ঘাটে নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও জরুরি হয়ে উঠেছে।

আরও পড়ুন

নাক চেপে পথ চলার দুই দশক, তবুও হয়নি সমাধান

রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন বলেন, পদ্মার পাড়কে ঘিরে আমাদের অনেক পরিকল্পনা রয়েছে। সেখানে দর্শনার্থীর সংখ্যা অনেক বেশি। হাইটেক পার্কের সামনে এবং শামকদম দরগাহ থেকে টিবাঁধ পর্যন্ত নদীর ধারে বিভিন্ন এলাকায় দর্শনার্থী ও পর্যটকদের ভিড় থাকে। এই ভিড় যেন নিরাপদ ও সুন্দর পরিবেশে থাকতে পারে, সে জন্য হাঁটাহাঁটি, খেলাধুলা ও বসার ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। বিনোদনকেন্দ্রগুলো পরিকল্পিতভাবে গড়ে তুলতে পারলে সেখানে কর্মসংস্থানেরও কিছু সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে আমরা মনে করি।

এদিকে নগর পরিকল্পনাবিদ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, পদ্মার পাড়কে ঘিরে পরিকল্পিত উন্নয়ন হলে এটি শুধু রাজশাহী নগরবাসীর বিনোদনকেন্দ্র নয়, উত্তরাঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন গন্তব্যে পরিণত হতে পারে। নদী, প্রকৃতি, ইতিহাস ও নগরজীবনের সমন্বয়ে এখানে তৈরি হতে পারে একটি আধুনিক ও নান্দনিক নদীকেন্দ্রিক পর্যটন এলাকা।

পরিকল্পিত পর্যটনও শহরের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে জানিয়ে রুয়েটের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক আবদুল ওয়াকিল বলেন, পদ্মা নদীর তীর, ঐতিহাসিক স্থাপনা এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে কেন্দ্র করে ওয়াকওয়ে, পার্ক, নৌকাভ্রমণ ও বিনোদন কেন্দ্র করে গড়ে তোলা গেলে রাজশাহী উত্তরাঞ্চলের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন নগরীতে পরিণত হবে। এতে একদিকে যেমন মানুষের বিনোদনের সুযোগ বাড়বে, অন্যদিকে ক্ষুদ্র ব্যবসা, নৌকাভ্রমণ, খাবারের দোকান ও অন্যান্য সেবাকে কেন্দ্র করে আরও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

এনএইচআর/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন jagofeature@gmail.com ঠিকানায়।