চড়া যন্ত্রাংশের দাম, বাজেট বাড়িয়েও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত কম্পিউটার

মনির হোসেন মাহিন মনির হোসেন মাহিন , বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক, রাবি
প্রকাশিত: ০৮:৪৪ পিএম, ২৪ আগস্ট ২০২৬
কম্পিউটারের যন্ত্রাংশ/ ছবি: জাগো নিউজ

আন্তর্জাতিক বাজারে কম্পিউটার ও আইসিটি পণ্যের দাম বাড়ার প্রভাব পড়েছে রাজশাহীর বাজারেও। কম্পিউটারের প্রসেসর, মাদারবোর্ড, র‍্যাম, গ্রাফিকস কার্ড, স্টোরেজ ডিভাইসসহ বিভিন্ন যন্ত্রাংশ কিনতে গিয়ে বাড়তি অর্থ গুনতে হচ্ছে ক্রেতাদের। শুধু দাম বাড়াই নয়, বাজেট বাড়িয়েও অনেক ক্ষেত্রে পছন্দের মডেল বা কনফিগারেশনের পণ্য পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে নতুন কম্পিউটার তৈরি কিংবা পুরোনো কম্পিউটার আপগ্রেড করতে গিয়ে অনেক ক্রেতাকেই আগের পরিকল্পনা পরিবর্তন করতে হচ্ছে।

রাজশাহীর সাহেব বাজার ও নিউ মার্কেট এলাকার বিভিন্ন কম্পিউটার পণ্যের দোকান ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

‘দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে আমাদের বিক্রি অনেকটাই কমে গেছে। আগে মাসে ১৫টি কম্পিউটার বিক্রি করতে পারলেও এখন ৫টি বিক্রি করা যায়না। কারণ যেই এসএসডির দাম ছিল ১৫০০ টাকা আজ সেটির দাম ২৫০০-৩০০০ টাকা। ৩ হাজার টাকার র‍্যাম এখন ৮ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এদিকে ক্রেতারা চায় নিম্ন দামের প্রোডাক্ট। ডিডিআর-৫ এর ১৬ জিবি র‍্যামের দাম আগে ছিল ১২ হাজার টাকা কিন্তু এখন সেটি ৩৫ হাজার টাকা। প্রত্যেক যন্ত্রাংশের দামে দুইগুণ-তিনগুণ দাম বেড়েছে।’

বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নতুন চালানে বেশ কিছু কম্পিউটার যন্ত্রাংশের দাম বেড়েছে। বিশেষ করে উচ্চক্ষমতার কম্পিউটারে ব্যবহৃত ডিডিআর৫ র‍্যাম, প্রসেসর, গ্রাফিকস কার্ড ও নির্দিষ্ট মডেলের স্টোরেজ ডিভাইসের দাম নিয়ে ক্রেতাদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে।

বিক্রেতারা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে সেমিকন্ডাক্টর, মেমোরি চিপ, এসএসডি, হার্ডডিস্কসহ বিভিন্ন যন্ত্রাংশের মূল্যবৃদ্ধির পাশাপাশি ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়নও দেশের বাজারে দাম বাড়ার অন্যতম কারণ। বাংলাদেশে কম্পিউটার যন্ত্রাংশের বড় অংশই আমদানিনির্ভর হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারের মূল্য ও সরবরাহ পরিস্থিতির পরিবর্তনের প্রভাব দ্রুতই স্থানীয় বাজারে পড়ে।

আরও পড়ুন

স্বল্প আয়ের মানুষের ব্যাংক হিসাবে আমানত বাড়লেও কৃষকদের কমছে

সাহেব বাজার ও নিউ মার্কেটের কয়েকটি দোকানে ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অনেকেই আগের বাজেট নিয়ে কম্পিউটার কিনতে এসে পরে বাজেট বাড়াতে বাধ্য হচ্ছেন। কেউ কেউ আবার পছন্দের মডেলের পরিবর্তে কম দামের বিকল্প পণ্য বেছে নিচ্ছেন। বিশেষ করে ডিডিআর৫ র‍্যামের দাম বাড়ায় নতুন প্রজন্মের প্রসেসর ও মাদারবোর্ড দিয়ে কম্পিউটার তৈরির ক্ষেত্রে মোট খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাচ্ছে।

‘এআইভিত্তিক সেমিকন্ডাক্টর পণ্যের অতিরিক্ত চাহিদা, ক্লাউড কম্পিউটিং ও ইলেকট্রিক ভেহিকেলভিত্তিক শিল্পের দ্রুত সম্প্রসারণ, ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা, আন্তর্জাতিক সরবরাহ চেইনে বিঘ্ন, জ্বালানি ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি এবং কপারসহ বিভিন্ন ধাতব কাঁচামালের সংকট-সব মিলিয়ে আইসিটি পণ্যের বাজারে মূল্যবৃদ্ধির চাপ তৈরি হয়েছে।’

রাজশাহীর বাজারে বর্তমানে বিভিন্ন মডেলের প্রসেসরের দামও ক্রেতাদের জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করছে। ইন্টেলের কোর আলট্রা-৯ ২৮৫কে প্রসেসরের দাম প্রায় ৭২ হাজার টাকা, কোর আই-৯ ১৪ প্রজন্মের প্রসেসর ৫৬ হাজার টাকা, কোর আলট্রা–৭ ২৬৫কে ৩৬ হাজার টাকা, কোর আই-৭ ১৪ প্রজন্ম ৫০ হাজার টাকা এবং কোর আই-৫ ১৪৬০০কেএফ প্রায় ৩৮ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কোর আই-৫ ১৩ প্রজন্মের একটি মডেলের দাম প্রায় ১৯ হাজার ৫০০ টাকা এবং কোর আই-৩ ১৩ প্রজন্মের দাম প্রায় ১৬ হাজার ৫০০ টাকা।

এএমডির প্রসেসরের ক্ষেত্রেও বিভিন্ন দামের পণ্য রয়েছে। রাইজেন-৯ ৭৯৫০এক্সের দাম প্রায় ৪৭ হাজার ৫০০ টাকা, রাইজেন-৭ ৫৭০০জি ২৩ হাজার ৫০০ টাকা এবং রাইজেন-৫ ৫৬০০জি প্রায় ১৯ হাজার টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।

মাদারবোর্ডের দামও মডেল ও ফিচারভেদে বেশ পার্থক্য রয়েছে। এমএসআইয়ের এ৫২০ এম-এ প্রো ডিডিআর৪ মাদারবোর্ডের দাম প্রায় ৭ হাজার ২০০ টাকা, প্রো এইচ৬১০ এম-ই ১০ হাজার টাকা, বি৪৫০ এম-এ প্রো ম্যাক্স ৮ হাজার ৫০০ টাকা, এইচ-৮১০ এম–বি ডিডিআর৫ ১৬ হাজার ৭০০ টাকা এবং বি-৬৫০ এম গেমিং ওয়াইফাই ডিডিআর-৫ প্রায় ১৯ হাজার টাকা। বি-৭৬০ গেমিং প্লাস ডিডিআর-৫ মাদারবোর্ডের দাম প্রায় ২২ হাজার ৫০০ টাকা।

‘গত বছর ৭ হাজার ৫০০ টাকা করে ১৬ জিবির দুটি ডিডিআর৫ ৬০০০ মেগাহার্টজ র‍্যাম কিনেছিলেন তিনি। এএমডি রাইজেন-৭ ৭৭০০ প্রসেসরের পাশাপাশি চলতি বছরের শুরুতে ৫০ হাজার টাকা দিয়ে আরএক্স ৯০৬০ এক্সটি ১৬ জিবি গ্রাফিকস কার্ডও কিনেছিলেন। বর্তমানে এসব যন্ত্রাংশের দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।’

আসুসের প্রাইম এইচ-৬১০এম মাদারবোর্ড প্রায় ১০ হাজার ৬০০ টাকা, টাফ গেমিং বি-৫৫০এম প্লাস ১৮ হাজার ৯০০ টাকা এবং প্রাইম জেড-৮৯০ প্লাস সিএসএম ডিডিআর-৫ মডেলের দাম প্রায় ৩৭ হাজার ৯০০ টাকা। গিগাবাইটের বি৭-৬০এম ডিডিআর-৫ মাদারবোর্ড প্রায় ১৭ হাজার ২০০ টাকা এবং বি-৪৫০এম কে এএমডি মাদারবোর্ড প্রায় ৮ হাজার ৯০০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।

র‍্যামের বাজারেও দামের বড় পার্থক্য দেখা যাচ্ছে। ডিডিআর৪-এর তুলনায় ডিডিআর৫ র‍্যামের দাম তুলনামূলকভাবে বেশি। করজেয়ার ভেনজিন্স এলপিএক্স ৩২০০ মেগাহার্টজের ৮ জিবি ডিডিআর-৪ র‍্যামের দাম প্রায় ৭ হাজার ৯০০ টাকা এবং ১৬ জিবি ১৩ হাজার টাকা। অন্যদিকে ভেনজিন্স আরজিবি ১৬ জিবি ডিডিআর-৫ ৫২০০ মেগাহার্টজ র‍্যামের দাম প্রায় ২৭ হাজার ৫০০ টাকা।

জিস্কিলের ট্রাইডেন্ট জেড আরজিবি ৮ জিবি ডিডিআর-৪ র‍্যামের দাম প্রায় ৭ হাজার ৫০০ টাকা। ফ্লেয়ার এক্স-৫ ১৬ জিবি ডিডিআর-৫ ৫৬০০ মেগাহার্টজ প্রায় ৩০ হাজার ৫০০ টাকা এবং ট্রাইডেন্ট জেড-৫ নিও আরজিবি ৩২ জিবি ডিডিআর-৫ ৬০০০ মেগাহার্টজের দাম প্রায় ৬৪ হাজার টাকা।

আরও পড়ুন

আয়কর রিটার্ন জমা দিতে আয়ের যেসব কাগজপত্র লাগবে

কিংস্টনের ফিউরি ৮ জিবি ডিডিআর৪ র‍্যামের দাম প্রায় ৮ হাজার টাকা, ১৬ জিবি ১৬ হাজার ৭০০ টাকা। ফিউরি আরজিবি ১৬ জিবি ডিডিআর৫ ৬০০০ মেগাহার্টজ প্রায় ৩০ হাজার টাকা এবং ৩২ জিবি ডিডিআর-৫ ৬০০০ মেগাহার্টজ প্রায় ৬০ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এক বছরে দাম অনেকটাই বেড়েছে জানিয়ে নগরীর এক ক্রেতা সিফাত হাসিব বলেন, গত বছর ৭ হাজার ৫০০ টাকা করে ১৬ জিবির দুটি ডিডিআর৫ ৬০০০ মেগাহার্টজ র‍্যাম কিনেছিলেন তিনি। এএমডি রাইজেন-৭ ৭৭০০ প্রসেসরের পাশাপাশি চলতি বছরের শুরুতে ৫০ হাজার টাকা দিয়ে আরএক্স ৯০৬০ এক্সটি ১৬ জিবি গ্রাফিকস কার্ডও কিনেছিলেন। বর্তমানে এসব যন্ত্রাংশের দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।

সিফাত হাসিব আরও বলেন, এএমডির আমদানিকারক তাকে ইন্টেল প্রসেসরের জন্য বেশি উপযোগী এক্সএমপি র‍্যাম দিয়েছেন। রাইজেন-৭ ৭৭০০ এটি সমর্থন করলেও এএমডির এক্সপিও র‍্যামের মতো ভালোভাবে উপযোগী নয়। বর্তমানে এক্সপিও র‍্যামের তুলনায় এক্সএমপি র‍্যামের চাহিদা কম হওয়ায় ভবিষ্যতে এটি পুনরায় বিক্রি করলে প্রত্যাশিত দাম পাওয়া নিয়ে তিনি কিছুটা চিন্তিত।

নগরীর আরেক ক্রেতা ইন্দ্রাণী দাশ বলেন, ২০২৪ সালে ১৪ হাজার টাকা করে চারটি ডিডিআর-৫ ৬০০০ মেগাহার্টজ র‍্যাম কিনেছিলেন তিনি। বর্তমানে প্রতিটির দাম প্রায় ৯৮ হাজার টাকা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

ইন্দ্রাণী দাশ বলেন, আগে যে বাজেটে কম্পিউটারের ভালো মানের যন্ত্রাংশ কেনা যেত, এখন সেই বাজেটে পছন্দের পণ্য পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। দাম এতটা বেড়ে যাওয়ায় নতুন করে কম্পিউটার আপগ্রেড করতে গেলে আগের তুলনায় অনেক বেশি অর্থের প্রয়োজন হচ্ছে।

র‍্যামের পাশাপাশি স্টোরেজ ডিভাইসের বাজারেও বাড়তি খরচ করতে হচ্ছে ক্রেতাদের। স্যামসাংয়ের পিএম-৯৯১এ ২৫৬ জিবি এসএসডির দাম প্রায় ৪ হাজার ৮০০ টাকা, ৯৯০ প্রো এনভিএমই ১ টেরাবাইট ৩২ হাজার ৫০০ টাকা এবং ২ টেরাবাইট ৫১ হাজার টাকা। করজেয়ারের এমপি-৬০০ প্রো ১ টেরাবাইট এসএসডি প্রায় ২৩ হাজার ৫০০ টাকা এবং এমপি-৬০০ ৫০০ জিবি প্রায় ১৪ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

হার্ডডিস্কের মধ্যে সিগেট বারাকুডা ২ টেরাবাইটের দাম প্রায় ১৭ হাজার ২০০ টাকা এবং ৪ টেরাবাইট ২২ হাজার ৫০০ টাকা। তোশিবার পি৩০০ ২ টেরাবাইট প্রায় ১৪ হাজার টাকা এবং এক্স৩০০ ৪ টেরাবাইট প্রায় ৩৪ হাজার ৫০০ টাকা।

বহনযোগ্য হার্ডডিস্কের কয়েকটি মডেলের দামও বেড়েছে। ওয়েস্টার্ন ডিজিটালের মাই পাসপোর্ট ১ টেরাবাইটের দাম প্রায় ১০ হাজার ৯০০ টাকা, ২ টেরাবাইট ১৩ হাজার ৫০০ টাকা এবং ৪ টেরাবাইট ১৮ হাজার ৫০০ টাকা। ট্রান্সসেন্ডের ১ টেরাবাইটের একটি মডেলের দাম প্রায় ১৫ হাজার ৫০০ টাকা এবং ৪ টেরাবাইটের একটি মডেলের দাম প্রায় ৩২ হাজার ৩০০ টাকা।

গ্রাফিকস কার্ডের বাজারেও উচ্চক্ষমতার পণ্য কিনতে ক্রেতাদের বড় অঙ্কের অর্থ খরচ করতে হচ্ছে। গিগাবাইটের আরটিএক্স ৩০৫০ ৬ জিবির দাম প্রায় ৩০ হাজার টাকা এবং ৮ জিবি প্রায় ৩৪ হাজার টাকা। আসুসের ডুয়াল আরটিএক্স ৩০৫০ ৬ জিবি প্রায় ৩৩ হাজার টাকা এবং ৮ জিবি প্রায় ৩৪ হাজার ৫০০ টাকা।

এমএসআইয়ের আরটিএক্স ৩০৫০ ৬ জিবি প্রায় ৩২ হাজার টাকা, আরটিএক্স ৩০৬০ ১২ জিবি প্রায় ৪৯ হাজার ৫০০ টাকা এবং আরটিএক্স ৪০৬০ প্রায় ৬৭ হাজার টাকা। উচ্চক্ষমতার আরটিএক্স ৫০৮০ ১৬ জিবি মডেলের দাম প্রায় ২ লাখ টাকা পর্যন্ত।

ল্যাপটপের জন্য এসএসডি কার্ড কিনতে এসে দাম শুনে হতবাক রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের জুবায়ের জিসান।

তিনি বলেন, আমি গতবছর এসএসডি কার্ড লাগিয়েছিলাম যেটির দাম ১৮০০ টাকা ছিল কিন্তু আজ এসে দেখি সেটির দাম ৪৫০০-৫০০০ টাকা হয়ে গেছে। এছাড়াও বাজারে কম্পিউটারের অন্যান্য পার্টসের দামও অনেকটাই বেড়ে গেছে।

এদিকে দাম বৃদ্ধি কারণে বেচাকেনায় ভাটা পড়েছে রাজশাহী নগরীর কম্পিউটারের দোকানগুলোতে। আগে মাসে ১৫টি কম্পিউটার বিক্রি করতে পারলেও দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে সেখানে ৫টি কম্পিউটার বিক্রি হচ্ছে। এছাড়াও ক্রেতারা দাম শুনে ক্রয় না করেই অনেকে চলে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন বিক্রেরাতা।

রাজশাহীর লাইসিয়াম কম্পিউটার টেকনোলজি দোকানের ইনচার্জ হাসিবুর রহমান সুজন বলেন, দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে আমাদের বিক্রি অনেকটাই কমে গেছে। আগে মাসে ১৫টি কম্পিউটার বিক্রি করতে পারলেও এখন ৫টি বিক্রি করা যায়না। কারণ যেই এসএসডির দাম ছিল ১৫০০ টাকা আজ সেটির দাম ২৫০০-৩০০০ টাকা। ৩ হাজার টাকার র‍্যাম এখন ৮ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এদিকে ক্রেতারা চায় নিম্ন দামের প্রোডাক্ট। ডিডিআর-৫ এর ১৬ জিবি র‍্যামের দাম আগে ছিল ১২ হাজার টাকা কিন্তু এখন সেটি ৩৫ হাজার টাকা। প্রত্যেক যন্ত্রাংশের দামে দুইগুণ-তিনগুণ দাম বেড়েছে। একটি কম্পিউটার বানাতে আগে যেখানে খরচ হতো ৫০ হাজার এখন তাতে ৮০ হাজার লাগছে বলে জানান তিনি।

আরও পড়ুন

এলপিজির ৯৭ শতাংশই আমদানিনির্ভর

নগরীর কম্পিউটার দোকানের টেকনিশিয়ান মো. সাকিব হাসান মিলন বলেন, কম্পিউটারের বাজারের সকল পার্টসের দাম বাড়তি। এসএসডি, র‍্যাম, প্রসেসর এবং মাদারবোর্ডসহ সবকিছুতেই দ্বিগুণ তিনগুণ দাম বেড়েছে। ক্রেতারা আসছেন দেখছেন কিন্তু বাজেটের মধ্যে কুলাতে না পেরে ক্রয় না করেই বাসায় ফিরে যাচ্ছেন। ৫০ হাজার টাকা বাজেট নিয়ে এসে দেখা গেলো ৭০ হাজার টাকা লাগবে তখন ক্রেতারা দুশ্চিন্তায় পড়ে যাচ্ছেন এবং আমাদের বেচাকেনা হচ্ছে না বলে জানান তিনি।

কম্পিউটার যন্ত্রাংশের দাম বাড়ার কারণ সম্পর্কে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক স্বপ্নীল রহমান বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমে যাওয়ায় বাংলাদেশে আমদানি করা কম্পিউটার যন্ত্রাংশের ব্যয় বেড়েছে। টাকার অবমূল্যায়নের কারণে এসব পণ্য আমদানিতে বর্তমানে আগের তুলনায় বেশি অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক জটিলতার কারণে এসব পণ্যের পরিবহন ব্যয়ও বেড়েছে। পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার দ্রুত বাড়ায় এআই সার্ভার ও উচ্চক্ষমতার কম্পিউটিংয়ের জন্য সেমিকন্ডাক্টর চিপের চাহিদা বেড়েছে। ফলে বৈশ্বিক বাজারে চিপ ও সংশ্লিষ্ট যন্ত্রাংশের সরবরাহের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে।

স্বপ্নীল রহমানের মতে, সরবরাহ কমে গেলে বাজারে স্বাভাবিকভাবেই প্রসেসর, মাদারবোর্ড, র‍্যাম, হার্ডডিস্কসহ বিভিন্ন যন্ত্রাংশের দাম বাড়ে। বাংলাদেশ যেহেতু কম্পিউটার যন্ত্রাংশের ক্ষেত্রে অনেকটাই আমদানিনির্ভর, তাই আন্তর্জাতিক বাজারের এই সংকটের প্রভাব সরাসরি দেশের বাজারে পড়ছে।

আন্তর্জাতিক বাজারে আইসিটি পণ্যের দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন রাজশাহীর বিক্রেতা সানজিদ শাওন। তিনি বলেন, বৈশ্বিক বাজার বিশ্লেষণে ডিসপ্লে প্যানেল, প্রসেসর, মেমোরি চিপ, স্টোরেজ ডিভাইস, এসএসডি ও কপারের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামাল ও যন্ত্রাংশের দাম আরও বাড়বে।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষক আব্দুল্লাহ আল মামুন চৌধুরী বলেন, এআইভিত্তিক সেমিকন্ডাক্টর পণ্যের অতিরিক্ত চাহিদা, ক্লাউড কম্পিউটিং ও ইলেকট্রিক ভেহিকেলভিত্তিক শিল্পের দ্রুত সম্প্রসারণ, ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা, আন্তর্জাতিক সরবরাহ চেইনে বিঘ্ন, জ্বালানি ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি এবং কপারসহ বিভিন্ন ধাতব কাঁচামালের সংকট-সব মিলিয়ে আইসিটি পণ্যের বাজারে মূল্যবৃদ্ধির চাপ তৈরি হয়েছে।

এনএইচআর/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন jagofeature@gmail.com ঠিকানায়।